Published : 20 May 2026, 08:27 PM
ঈদ মানেই খুশি আর উৎসবের আমেজ, আর এই উৎসবে নতুন পোশাক, উপহার আর গৃহস্থালির জিনিসপত্র কেনাটা যেন একটা ঐতিহ্যের মতো। আগে ঈদের বাজার মানে ছিল বিপণিবিতানে মানুষের ভিড়, রাস্তায় যানজট আর কেনাকাটা করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা। কোরবানির পশু কেনার জন্য তো ছিল আরও বেশি ঝামেলা। কিন্তু ২০২৬ সালে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আর মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সাথে সাথে ঈদের কেনাকাটায় এসেছে এক নতুন বিপ্লব। যানজট আর গরমের কষ্ট এড়িয়ে দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখন ঘরে বসেই ঈদের কেনাকাটা করছেন। সেটা পোশাক হোক বা কোরবানির পশু—সব কিছুই এখন হাতের মুঠোয়। বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় সব ফ্যাশন ব্র্যান্ড, ইলেকট্রনিক্সের দোকান থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সুপারশপগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট বা স্মার্টফোন অ্যাপ রয়েছে।
এছাড়াও, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমে অনেক উদ্যোক্তা তাদের পণ্য বিক্রি করছেন। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, বাচ্চাদের পোশাক, জুতা, গয়না, প্রসাধনী, ঘর সাজানোর জিনিস—সবকিছুই এখন এক ক্লিকেই পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আগস্ট থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার ই-কমার্স লেনদেন হয়েছে। ২০২৬ সালে ই-কমার্সে যুক্ত হয়েছে আরও নতুন প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ক্রেতার পছন্দের পণ্য দেখানো হচ্ছে, ভার্চুয়াল ট্রায়াল রুম এবং থ্রিডি ভিউয়ের মাধ্যমে পণ্য যাচাই করার সুযোগ থাকায় দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন প্রায় নেই বললেই চলে। ক্রেতারা এখন ঘরে বসেই পরিবারের সাথে পণ্য দেখে, দাম তুলনা করে অর্ডার করতে পারছেন। দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত হওয়ায় মানুষের আস্থা বাড়ছে। এই বিশাল পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন।
নগদ টাকা বহন করার ঝুঁকি, চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় এবং খুচরা টাকার ঝামেলা এড়াতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই ডিজিটাল পেমেন্টকে বেশি পছন্দ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায়, বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও দ্রুত হবে। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়-এর মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের পাশাপাশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু অনলাইন শপ নয়, যারা সরাসরি শপিং মলে যাচ্ছেন, তারাও নগদ টাকার বদলে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এবারের ঈদ মৌসুমে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।।